ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৩ জানুয়ারি ২০২৫
  1. আজকের পার্বত্য ফেক্ট
  2. এনজিও
  3. খাগড়াছড়ি
  4. খেলাধুলা
  5. জাতীয়
  6. পার্বত্য অর্থনীতি
  7. পার্বত্য আইন ও অপরাধ
  8. পার্বত্য এক্সক্লুসিভ
  9. পার্বত্য কৃষি ও উন্নয়ন
  10. পার্বত্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী
  11. পার্বত্য চাকরি-দরপত্র-বিজ্ঞপ্তি
  12. পার্বত্য পর্যটন
  13. পার্বত্য রাজনীতি
  14. পার্বত্য সাংস্কৃতিক
  15. পার্বত্য সাহিত্য

ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ; শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ভঙ্গ!

নিজস্ব প্রতিবেদক, লংগদু
জানুয়ারি ২৩, ২০২৫ ৭:৪৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

কোটি টাকার অধিক ব্যয়ে সোনারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুইতলা ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভবন নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট, বালু ও পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি এলাকাবাসীর। তারা এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি পার্বত্য জেলা রাঙামাটির লংগদু উপজেলার গুলশাখালী ইউনিয়নের সোনারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতল বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। কাজটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়ন করছে। এতে সোয়া কোটি টাকার অধিক অর্থাৎ ১ কোটি ২০ লাখ ৫৮ হাজার ২৯৯ টাকা বরাদ্দে কাজ পান স্থানীয় রিপন কুমার দাশ নামে এক ঠিকাদার। নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই ঠিকাদার নিম্নমানের ইট, বালু ও পাথর ব্যবহার করছেন। নির্মাণাধীন ভবনে প্লাস্টারের সময়ই ফাটল সহ আস্তর ভেঙ্গে পড়ার চিত্র দেখা গেছে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে এসব বিষয় নিয়ে এলজিইডির প্রকৌশল বিভাগে অভিযোগ করা হয়েছে। তারপরও ঠিকাদার নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের নতুন ভবন নিয়ে চিন্তিত অভিভাবকরা।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি খায়রুল হাসান বলেন, বর্তমানে নিম্নমানের ইট দিয়ে ফ্লোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঠিকাদার। কিছু সংখক ইট এবং বালি ফ্লোরে বিছিয়েও দিয়েছে তবে আমরা নিম্নমানের দুই নম্বর ইট দিয়ে কাজ করতে নিষেধ করেছি।

একই অভিযোগ করে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, তারা এসব দুই নম্বর ইট বোট থেকে তোলার সময়ই আমি নিষেধ করি কিন্তু তারা শুনেনি। পরবর্তীতে এসব দুই নম্বর ইট ফ্লোরে বসালে আমরা কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেই।

সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জামাল হোসেন বলেন, আমার বদলি হয়েছে সোনারগাঁও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, আগামী ফেব্রুয়ারির এক তারিখ আমার যোগদান। তবে এরমধ্যেই আমি স্কুলটি দেখার জন্য গেলে নতুন ভবনের চলমান কাজের অনিয়ম পরিলক্ষিত হওয়ায় কাজ বন্ধ করে দিতে বলেছি। ঐসময় ঠিকাদার আমাকে জবাবে বলেন, আমরা বিভিন্ন স্কুলের কাজ এভাবেই করে আসছি, কোথাও কোথাও ইট ছাড়াও ফ্লোর ঢালাই করেছি কোথাও কোনো সমস্যা হয় নাই।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. খোকন বলেন, ভবন নির্মাণে অনিয়মের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। কেউ আমাকে কখনো বলেনি, তাই আমি বিষয়টি নিয়ে কথা বলিনি। তবে দূর থেকে মনে হয় কাজে দু’নম্বরি হচ্ছে। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি চাই বিদ্যালয়টি যেহেতু রাষ্ট্রীয় সম্পদ, সুতরাং কাজ ভালো হোক।

লংগদু উপজেলা প্রকৌশলী শামসুল আলম বলেন, আমরা নির্মাণাধীন ভবনটি পরিদর্শন করবো এবং অনিয়ম পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এ বিষয়ে লংগদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কফিল উদ্দীন মাহমুদ জানান, যেহেতু তথ্য দিয়েছেন খোঁজ খবর নিয়ে খুব শীঘ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে ঠিকাদার রিপন কুমার দাশকে তার ব্যবহৃত ফোন নাম্বারে একাধিকবার কল দিলেও তিনি কল ধরেনি। তাই বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

প্রসঙ্গত, গত ২০২৩ সালের ২রা এপ্রিল স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে সাংবাদিকরা ঝুকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবনটি দেখে “ভবনের ছাদ খসে পড়ায় ভয়ে স্কুলে যায় না শিশুরা” শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে বিষয়টি। পরে নতুন ভবন পায় বিদ্যালয়টি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।